তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অবদান রাখছে ডিভাইন আইটি

দেশের অন্যতম তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডিভাইন আইটি লিমিটেড। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে রয়েছে এই কোম্পানিটির অসাধারণ অবদান। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ভিশন- ২০২১ এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও অবদান রাখছে এই প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি দৈনিক ইত্তেফাক এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাত্কারে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান রাসেল তাদের কার্যক্রম, অর্জন ও অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন মাহবুব শরীফ

ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান, যিনি রাসেল নামেই বেশি পরিচিত। তিনি ডিভাইন আইটি লি. এর প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ইতোমধ্যে তিনি নিজেকে একজন সফল বাংলাদেশি আইটি উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি তার প্রতিষ্ঠানকে সফলতার অন্যতম জায়গায় নিয়ে এসেছেন। ২০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি এই খাতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। শীর্ষ স্থানীয় সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর মধ্যে ডিভাইন আইটি অন্যতম। রাসেল আহম্মেদ এর উদ্যোক্তা প্রতিভা ও নেত্রীত্বের বৈশিষ্টগুলো বাংলাদেশের আইটি খাতে একটি জায়গা দখল করে নিয়েছে ইতোমধ্যে।

ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান রাসেল তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি ডিভাইন আইটি  লি. এর কার্যক্রম বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘ডিভাইন আইটি একটি সফওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি। ২০০৫ সাল থেকেই দেশে ও দেশের বাইরে এই কোম্পানিটি সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছে। দেশেই আমাদের ৪টি অফিস রয়েছে, যা সব মিলিয়ে ২০ হাজার বর্গফুট হবে। আপাতত আমাদের এখানে ১৩০ জনের বেশি লোকবল কাজ করছে। কপিরাইট প্রোডাক্ট ৯টি ও ট্রেডমার্ক প্রোডাক্ট ৬টিসহ বর্তমানে আমাদের ২৬টি সেবা চালু রয়েছে।’

ডিভাইন আইটি দেশে বিদেশে অনেক সুনাম অর্জন করেছে ইতোমধ্যে। ২০১৬ সালে জাতীয় পর্যায়ে শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অ্যান্ড কোয়ালিটি অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডে-এ এসএমই ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান লাভ করে। ২০১৭ সালে গভর্নমেন্ট ও রিটেইল ক্যাটাগরিতে আলাদাভাবে বেসিস আইসিটি অ্যাওয়্যার্ড অর্জন করেছে। একই বছর রিটেইল ক্যাটাগরিতে অ্যাপিক্টা অ্যাওয়ার্ড ২০১৭ ও অর্জন করে এই প্রতিষ্ঠানটি। ইতোমধ্যে উত্তরায় অবস্থিত তাদের অফিসকে বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি ডিভিশন কর্তৃক প্রাইভেট সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও কোম্পানিটি   আইএসও ৯০০১, এইএসও ২৭০০১ ও সিএমএমআইও অনুমোদন অর্জন করেছে।

ডিভাইন আইটি লি. এর সেবা সম্পর্কে ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান রাসেল বলেন,‘ডিভাইন আইটি অনেকগুলো ক্যাটাগরিতে সেবা দিয়ে থাকে। প্রিজম ইআরপি এর মধ্যে একটি। ইআরপিতেই আমাদের গ্রাহক রয়েছে পাঁচ শাতাধিক।’ প্রিজম ইআরপি’র গ্রহকদের সম্পর্কে জানতে চাইলে রাসেল বলেন,‘প্রিজম ইআরপি আমাদের একটি সফল প্রোডাক্ট। তিতাস গ্যাস এর যাবতীয় সার্ভিস আমাদের প্রিজম ইআরপি’র মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি বছর তিতাস গ্যাসের ১৪০০০ কোটি টাকা লেনদেন হয় এই প্রিজম ইআরপি সিস্টেম থেকে। আমাদের উল্লেখযোগ্য গ্রহকদের মধ্যে আইসিটি ডিভিশন, চিটাগং বন্দর, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ইউএসএআইডি-সহ অসংখ্য গ্রাহক রয়েছে আমাদের।’

প্রিজম ইআরপি’র সেবা জনপ্রিয়তার কারণ জানতে চাইলে ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান রাসেল বলেন,‘প্রিজম ইআরপি অনেক জনপ্রিয় একটি সেবা। এটি জনপ্রিয় হবার অন্যতম কারণ হলো- এটি খুব সহজেই অপারেটিং করা যায়। ব্যবহারকারীরা ডেস্কটপ ও মোবাইল ভার্সনে এই সেবাটি গ্রহণ করতে পারাবে। এক কথায় বলতে পারি এটি এমনই একটি প্লাটফর্ম যেখানে রয়েছে ব্যবহারকারীদের স্বাধীনতা।’ তিনি আরো বলেন,‘এই সেবাটি শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, আমেরিকা, লন্ডন, মধ্যপ্রাচ্য, কেনিয়া ও নেপালেও চলমান রয়েছে এটি। এছাড়াও মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামে আমাদের আলাপ আলোচনা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই আমরা এই দুইটি দেশে কাজ করতে পারবো। এই সেবাটি জনপ্রিয় হওয়ার আরো একটি কারণ হচ্ছে- বাংলাদেশে এই একটি মাত্র কোম্পানি যারা ক্লাউড বেসড ইআরপি সেবা প্রদান করে থাকে।’

ওয়ানবুক হলো এই প্রতিষ্ঠানের আরো একটি সেবা। এই সেবাটি মাসিক চুক্তির ভিত্তিতে গ্রহণ করা যায়। এটি একটি হোস্টেট সলিউশন সার্ভিস। ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান রাসেল এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘এই পদ্ধতিতে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও একজন গ্রাহক তাদের সেবা পেতে পারেন। ওয়ানবুক সেবার মাধ্যমে একজন আগ্রহী ওয়ানবুকের পেজে ঢুকে তাদের কাঙ্খিত সেবাটি বেছে নিতে পারেন। এজন্য কারো সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। যেহেতু এটি মাসিক চুক্তিভিত্তিক সেবা, সেহেতু কেউ যদি কয়েক মাস ব্যবহার করার পর মনে করেন যে, এটি আর ব্যবহার করবো না তাহলে সে নিজে থেকেই  তা বন্ধ করে দিতে পারবে এবং লেনদেন পদ্ধতি সম্পূর্ণ অনলাইনের মাধ্যমে করা যাবে।’ রাসেল বলেন, ‘সরকারী ও ইনস্টিটিউটগুলোর জন্য অগ্রাধীকার ভিত্তিতে আমরা এই সেবাটি দিয়ে থাকি, তবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদেরকে প্রদান করতে হবে অন্যান্য খরচগুলো।’ তিনি আরো বলেন, ‘দেশের বাজারে সফটওয়্যার ও আইটি সম্পর্কিত যে চাহিদা তৈরি হয়েছে তা পূরণ করাই আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে।

আমাদের একটি স্লোগান রয়েছে আর তা হলো ‘থিংক গ্লোবাল বি লোকাল’। আমরা আন্তর্জাতিক বাজারের হিসেবে আমাদের সেবা প্রদান করে থাকি কিন্তু সেই সেবা দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগে দেয়ার প্রত্যয় রয়েছে আমাদের। আর একটি বিষয় হলো, আমাদের রয়েছে একটি ডায়নামিক টিম। এই টিমের প্রায় সকলেই তরুণ, তাই কাজে রয়েছে আলাদা গতি।’ সর্বশেষে তিনি বলেন,‘বর্তমান সরকার প্রযুক্তি বান্ধব সরকার। আমাদের পথচলা ও এতদূর আসার পেছনে সরকারের অনেক অবদান রয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আগামী তিন বছরে তথ্যপ্রযুক্তিতে ৫০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানিতে আমরা অংশিদার হতে পেরে আনন্দিত।’ 

ঢাকা আবহাওয়া
০১ জানুয়ারি, ১৯৭০
ফজর
জোহর
আসর
মাগরিব
ইশা
সূর্যাস্ত : ৬:০৬সূর্যোদয় : ৫:৪৪

আর্কাইভ